সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনে ব্যবহৃত কয়েকট স্লোগানের ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শব্দগুলোর মাধ্যমে ভাষার বিশুদ্ধতা ও রাজনৈতিক কালচার বিষয়ক আলাপ এই কারণে তুঙ্গে। পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
ফেসবুক পোস্টে দেশের তিন বিশিষ্ট কবি, শিক্ষক ও গবেষকের মতামত এখানে তুলে ধরছি-
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ভাষার রাজনীতির আরেকটি দিক হলো প্রতীকের পুনর্দখল: কবি ও গবেষক মজিদ মাহমুদ
“ইনকিলাব জিন্দাবাদ” কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভাষার শক্তি, প্রতীকের নির্মাণ এবং ক্ষমতার বিন্যাস বোঝার একটি কার্যকর উদাহরণ। শব্দ দুটি আরবি-ফারসি উৎসজাত—“ইনকিলাব” অর্থ মৌলিক পরিবর্তন, “জিন্দাবাদ” অর্থ দীর্ঘজীবী হোক। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবহারে শব্দের আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তার প্রয়োগ, প্রেক্ষাপট ও ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কই গুরুত্বপূর্ণ।
১৯২৯ সালে দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপের পর বিপ্লবী ভগৎ সিং আদালতে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” উচ্চারণ করেন। তাঁর সংগঠন, হিন্দুস্থান সোসালিস্ট রিপাবলিকান এসোসিয়েশন, ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছিল। একই ধারায় বিপ্লবী আশফাকউল্লাহ খানের মতো ব্যক্তিত্বও এই স্লোগানকে ঔপনিবেশিক বিরোধিতার প্রতীকে রূপ দেন। এখানে “ইনকিলাব” কেবল ক্ষমতার স্থানান্তর নয়; বরং শোষণমূলক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর রূপান্তরের প্রতীক।
পরবর্তী সময়ে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলো এটি শ্রেণিসংগ্রাম, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে। শ্রমিক, কৃষক ও ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে এটি সংক্ষিপ্ত অথচ তীব্র আহ্বান হয়ে ওঠে।
ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানের গণঅভ্যুত্থানে স্লোগানটি জাতীয় মুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়। একইভাবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় “জয় বাংলা”–এর জনপ্রিয়তা জাতীয় চেতনার প্রতীকে পরিণত হয়। সাহিত্যিক ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর এটি ক্রমশ দলীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সর্বজনীন আবেদন কিছুটা সীমিত হয়। একই সময়ে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বা অন্যান্য বিকল্প স্লোগান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে ওঠে।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ভাষার রাজনীতির আরেকটি দিক হলো প্রতীকের পুনর্দখল। আগে বামপন্থী বা প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শব্দ—যেমন সংগ্রাম, ইনকিলাব, ইনসাফ—পরবর্তীকালে ভিন্ন মতাদর্শী শক্তিও ব্যবহার করতে শুরু করে। এটি ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন, না কি কৌশলগত দখল—দুইই বিশ্লেষণযোগ্য। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ভাষা এখানে মতাদর্শগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। শব্দের মালিকানা স্থায়ী নয়; ক্ষমতার সঙ্গে তার অর্থও রূপান্তরিত হয়।
ইতিহাস প্রমাণ করে, কোনো স্লোগানকে আইন বা প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে জনপ্রিয় করা যায় না। একটি শব্দ বা প্রতীক টিকে থাকে তখনই, যখন তা বাস্তব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক চর্চা ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতার অনুপস্থিতিতে স্লোগান কেবল আনুষ্ঠানিক উচ্চারণে সীমাবদ্ধ থাকে।
ভাষা প্রাকৃতিক অর্থে নিরপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবহারে তা কখনোই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নয়। রাষ্ট্রক্ষমতা, দলীয় আধিপত্য ও সামাজিক শক্তির ভারসাম্য ভাষার অর্থ নির্ধারণ করে। “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”–এর ইতিহাস এই প্রবাহমানতার উদাহরণ—ঔপনিবেশিক বিরোধিতা থেকে সমাজতান্ত্রিক স্বপ্ন, জাতীয় মুক্তি থেকে দলীয় পরিচয়—প্রতিটি স্তরে শব্দটি নতুন রাজনৈতিক অর্থ পেয়েছে।
স্লোগান কেবল উচ্চারণ নয়; এটি মতাদর্শ, স্মৃতি ও ক্ষমতার সমন্বিত রূপ। শব্দের পবিত্রতা রক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার রাজনৈতিক প্রয়োগের নৈতিকতা। যে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে স্লোগান আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নেয়; আর যেখানে বঞ্চনা ও বৈষম্য বিদ্যমান, সেখানে একই শব্দ নতুন অর্থে ফিরে আসে। ভাষার রাজনীতি ইতিহাসের সঙ্গে চলমান এক অবিরাম সংলাপ।
ভাষার কাল্পনিক শুদ্ধতা ও উগ্র জাতীয়তাবাদের সংকট: খোরশেদ আলম
ভাষার কোনো ‘বিশুদ্ধ’ রূপ নেই, কারণ কোনো ভাষাই শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়নি। প্রতিটি ভাষার বেড়ে ওঠার পেছনে মিশে থাকে অভিবাসন, বাণিজ্য, যুদ্ধ আর ক্ষমতা বদলের হাজার বছরের ইতিহাস। উগ্র জাতীয়তাবাদ সেই ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায়। তা কেবল বিভাজনই তৈরি করে না, বরং মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করে। দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষের জন্ম দেয়। মূলত, ভাষা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত নদী, যা জনমানুষের হৃদয়ে নিজের গতিতেই বিবর্তিত হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভাষার এই ‘শুদ্ধতা’র লড়াই নানা রূপে বিদ্যমান। ইউরোপে ফ্রান্স তাদের ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষায় অত্যন্ত কট্টর; সেখানে ‘Academie Française’ নামক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইংরেজি শব্দের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘E-mail’-এর বদলে ‘Courriel’ বা ‘Smartphone’-এর বদলে ‘Téléphone intelligent’ ব্যবহারের চাপ দেয়। যা তেমনভাবে কাজে আসেনি। আবার ইস-রা-য়েলের ক্ষেত্রে হিব্রু ছিল মূলত একটি মৃতপ্রায় ধর্মীয় ভাষা। ১৯৪৮ সালে একে পুনর্জীবিত করতে আধুনিক জীবনের প্রয়োজনে হাজার হাজার নতুন শব্দ ‘তৈরি’ করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ভাষাকে যান্ত্রিক করে তুলেছে।
তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের ‘ভাষা বিপ্লব’ এই কৃত্রিম শুদ্ধতাবাদের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তিনি এক ঝটকায় আরবি ও ফারসি শব্দগুলো উপড়ে ফেলে তুর্কি ভাষাকে সম্পূর্ণ ‘বিশুদ্ধ’ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, ‘হক’ (অধিকার) বা ‘আদল’ (বিচার)-এর মতো সূক্ষ্ম ভাব প্রকাশের জন্য তুর্কি ভাষায় কোনো যুতসই বিকল্প নেই। ফলে জোর করে তৈরি করা নতুন শব্দগুলো মানুষের কাছে কৃত্রিম ও প্রাণহীন মনে হলো এবং ‘সরকারি ভাষা’ আর ‘জনগণের ভাষা’র মাঝে এক বিশাল দেয়াল তৈরি হলো।
এই সংস্কারের ফলে একটি জাতি এক রাতের ব্যবধানে তাদের হাজার বছরের ইতিহাসের কাছে ‘অশিক্ষিত’ হয়ে পড়ল। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে আতাতুর্ক এক অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রচার করেছিলেন যে, বিশ্বের সব ভাষার উৎস আসলে তুর্কি! শেষ পর্যন্ত ১৯৫০-এর দশকে তুরস্ক এই কট্টর অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।
বর্তমানে ভারতেও একই ধরনের ‘সাংস্কৃতিক শুদ্ধি’র রাজনৈতিক লড়াই চলছে। হিন্দি ভাষাকে সংস্কৃতায়নের পরিবর্তনের পদ্ধতিগত চেষ্টা চলছে। কিন্তু সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে না সহজে। ভাষার এই আক্রমণের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ভারতে, বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, কারণ তাদের কাছে হিন্দি বা সংস্কৃত—উভয়ই ‘বিদেশি’ ভাষা। একইভাবে মারাঠি বা কন্নড় ভাষার ক্ষেত্রেও কট্টরপন্থীরা বিদেশি শব্দের ওপর খবরদারি চালায়।
এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এখন ডিজিটাল রূপ পরিগ্রহ করেছে। বাংলাদেশে সংস্কৃত-আরবি-ফারসি শব্দ নিয়ে অনেক সময়ই বিতর্কের ঝড় ওঠে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহারের কারণে ট্রল বা আক্রমণ সাধারণ বিষয়। এখানে এক গোষ্ঠী আরেক গোষ্ঠীকে ঘায়েল করতে সদা তৎপর থাকে। যার মূলে থাকে মূলত সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ। আর একেই বলা হয় ‘লিঙ্গুইস্টিক পিউরিজম’ বা বিশুদ্ধতাবাদের ডিজিটাল সংস্করণ। অথচ বর্তমান যুগে প্রযুক্তিগত প্রয়োজনেই আমরা হাজার হাজার ইংরেজি শব্দকে (যেমন: অ্যাপ, অনলাইন, শেয়ার, মোবাইল, গেম) নিজের করে নিয়েছি, যেখানে কোনো ‘শুদ্ধি অভিযান’ কাজে আসছে না।
ফ্রেঞ্চ, তুর্কি, হিব্রু, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট হয় যে, চাপানো শক্তি ব্যবহার করে মানুষের মনের ভাষা রাতারাতি বদলে দেওয়া যায় না। উগ্রতা দিয়ে ভাষা চালানো যায় না। ভাষা শেষ পর্যন্ত তার আপন নিয়মে বৈচিত্র্য, সংকরায়ণ আর সংমিশ্রণের পথে অগ্রসর হয়।
“ভাষা মৌলবাদ” বাংলাদেশে নোংরামির চুড়ান্ত পর্যায়ে: হেলাল মহিউদ্দীন
১
লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা ইংলিশ। অথচ সেই ভাষারই মাত্র ১৬ ভাগ মৌলিক শব্দ। ৮৬ ভাগই পরদেশি শব্দ। ভাষাটি শব্দ ধার করেছে ৩৫০টিরও বেশি ভাষা থেকে। এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা এমনটিই জানাচ্ছে।
অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে ইংরেজি ভাষায় প্রায় ৬,০০,০০০ শব্দ রয়েছে। তার ২৮% ফরাসি (আদি ফরাসি ও ইঙ্গ-ফরাসিসহ)। ল্যাটিন ২৮%, জার্মানিক (আদি ইঙ্গ, নর্স ইত্যাদি) ২৫%, গ্রিক ৫%। মানে লিংগুয়া ফ্রাঙ্কার শব্দভাণ্ডারের দুই-তৃতীয়াংশের উৎসই ল্যাটিন ও রোমান; তিন চতুর্থাংশেরও বেশি পরদেশি ভাষা।
২
“পানি আল্লাহর নেয়ামত”। এই বাক্যটি কি বাংলা বাক্য?
না! তিনটি শব্দই অ-বাংলা। তাহলে বাংলায় কীভাবে বলব? মৌলিক ‘বাংলা’ ভাষাই বা আসলে কী? জোর করে যদি কিছু একটা বাক্য দাঁড় করাই, সেটির চেহারা-সুরত কী রকম কদর্য হবে ভাবা যায়! যে সুফিয়ানা-মরমিয়া-সহজিয়া ভাব-সৌন্দর্যটি পেলাম “পানি আল্লাহর নেয়ামত” বাক্যে—সেটি কি আদৌ মিলবে?
৩
বলা ও লেখার জন্য পৃথিবীতে একটিও মৌলিক ভাষা নেই। থাকা সম্ভব নয়। ভাষা সমুদ্রস্বভাবা। হাজারো নদীর ধারা এসে সমুদ্রে যেভাবে মেশে, সেভাবে অন্য ভাষার ধারা, শব্দভান্ডার ভাষায় মিশবেই। ঠেকানোর কিছু নেই।
গ্রিক ভাষা অসংখ্য শব্দ ধার করেছে ইতালীয়, তুর্কি, ল্যাটিন, ফরাসি থেকে। ভাষাটিতে শুধুমাত্র ইতালীয় ও তুর্কি উৎস হতে ধার করা শব্দ রয়েছে ২০০০এর বেশি।
জার্মান ভাষা ধার করেছে ল্যাটিন, গ্রিক, ফরাসি, আদি ইঙ্গ ভাষা হতে। উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির জার্মান শব্দতালিকার ১৪%ই ল্যাটিন উৎসের।
ফরাসি ভাষাও অগণিত শব্দ নিয়েছে ল্যাটিন, ফ্রাঙ্কিশ (জার্মানিক), গ্রিক, ইতালীয়, আরবি, ইংরেজি ও তুর্ক হতে। প্রায় ৭০০টি শব্দ সরাসরি ফ্রাঙ্কিশ, অপভ্রংশ অসংখ্যই রয়েছে ।
৪
“ভাষা মৌলবাদ” বাংলাদেশে নোংরামির চুড়ান্ত পর্যায়ে! এক-আধটি ভিনদেশি শব্দ, বিশেষত উর্দু-ফারসি দেখলেই আমাদের গাত্রদাহ হওয়া থেকে শুরু করে মাথায় রক্ত উঠে যাওয়া, এমনকি রক্তারক্তির কাছাকাছি পৌঁছাও দেখতে পাই।
৪
বাংলা ভাষার মূল ভিত্তি ইন্দো-আর্য (মাগধী প্রাকৃত/সংস্কৃত)। ভোকাবুলারি বা শব্দভান্ডারে কতোভাগ বিদেশি শব্দ রয়েছে বিষয়ে গবেষণা আছে কি না আমার জানা নেই। অনুমান করি ইংরেজির মতই আশি-পঁচাশি ভাগই বিদেশি শব্দ। ফার্সি, আরবি, তুর্কি, উর্দূ, পর্তুগিজ, ফরাসি, ডাচ, ইংরেজি, চিনা, জাপানিসহ আরো অসংখ্য ভিনদেশি ভাষার শব্দে ভরপূর বাংলা। সংস্কৃত আর পালি—ভাষার প্রধান উৎসমূল দুটিই আধা-স্বদেশি।
৫
বাংলাদেশে কে একজন বলেছে ‘উর্দু শুনলে আমার হৃদয় শীতল হয়’। এই উক্তি কীভাবে টিভিতে টক শো’র আলোচনা হবার বিষয় হতে পারে? দেখলাম, সেটিই হচ্ছে। বিজ্ঞ আলোচকরা কেউ মূল আলাপের ধারেকাছেও গেলেন না, অথচ কতো সব শিবের গীতই না গাইলেন!
এক দশকের বেশি সুফি ঘরানার উর্দু কবিতা সাহিত্য শুনছি। অনুবাদে মন ভরে না। পড়তে পারি না। তাই শুনে হৃদয়ংগম করার চেষ্টা করে আসছি। যতোই শুনি মনে হয় কী এক অসাধারণ রত্নভান্ডার আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে রয়ে যাচ্ছে! আমারও হৃদয় শীতল হয়। চোখও আর্দ্র হয়।
এই সত্যটি স্বীকার করলে আমাকে কেন শূলে চড়ানোর চেষ্টা চলবে? বোধবুদ্ধিহীন ও অনুভূতি-বিবর্জিত উগ্র রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ আমাদের আর কতোটা অতল গহবরে টেনে নেবার চেষ্টা চালাবে কে জানে!
অন্তর্বর্তি সরকারের প্রাক্তন প্রেস উপদেষ্টা ইংরেজিতে একটি তীর্যক স্যাটায়ারের ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটির মর্মার্থই বুঝেনি অসংখ্য মানুষ। একটি টিভি চ্যানেল দেখলাম সেটিকে ফটোকার্ড করেছে!
হাস্যকর! লোয়ার মিডিওক্রিটিরও একটি লেভেল থাকে! টিভি চ্যানেল চালায় কারা? তাদের এই তলানি লেভেলটিতেও ফেলা যাবে কি?
৬
ভাষা আন্দোলন আবারও হওয়া দরকার। আন্দোলনটি হওয়া দরকার ভাষা-মৌলবাদের বিরুদ্ধে।
