গত ৭ জানুয়ারি বুধবার নপম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাবনার মেমোরিয়াল ক্লাব বুকসে অনুষ্ঠিত হলো এক প্রাণবন্ত আড্ডা। পৌষের সন্ধ্যা শিরোনামের এ আয়োজনে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং আগামীর বাংলাদেশে তরুণদের করণীয় নিয়ে জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও তরুণ কর্মীরা অংশ নেন।
পাবনা তথা দেশের মনন গঠনে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে আড্ডার গুরুত্ব অপরিসীম এবং নপম এর তৎপরতা সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে অংশীজনেরা মত দেন। আড্ডায় অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরুণদের ভূমিকা, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সামাজিক প্রভাব এবং আগামীর বাংলাদেশ গঠনে নাগরিকদের দায়িত্ব, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা, চিন্তাশীল মানুষদের মতামতের সুষ্ঠু স্পেস ও ছাত্র-তরুণদের তৎপরতা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবে বিফলে না যায়, সে ব্যাপারে সকলে দৃঢ় ভূমিকায় থাকতে হবে। তারা মনে করেন দশ বছরের ধারাবাহিকতায় এই আড্ডায় পরস্পরকে প্রশ্ন করার, শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা বলেন, পাবনাকে ফুলের শহর করতে আমরা হয়তো একা পারবো না, কিন্তু পাবনাকে ফুলের শহর করতে আইডিয়া ছড়িয়ে দিতে পারবো। যাতে একদিন শহরের মানুষ, জেলার মানুষ নিজেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে শহরকে-জেলাকে ফুলের শহরে পরিণত করবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের শৈশব, কৈশোর, যৌবন গেছে লড়াই করতে করতে। আমরা আমাদের দীর্ঘ দিনের লড়াই জুলাই পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলাম। জুলাইয়ের আন্দোলনে মিশে ছিলাম। আমাদের সেই লড়াই অব্যাহত আছে। এই লড়াইটা ছিলো সব মানুষের, ফলে আমরা আমাদের যা করণীয় তা মানুষের সাথে থেকে করেছি।
নপম ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, অনেক প্রাণ ক্ষয় করে আমাদের আজকের এই বাংলাদেশ। কোনোভাবেই আমরা হেরে যেতে পারি না। এদেশের মানুষ এখনো কত কষ্ট করে, এই প্রচণ্ড শীতে ভাঙাচোরা ঘরে রাত যাপন করে। এখানে পুলিশ নাগরিকের সাথে প্রভুর মতো আচরণ করে। কী নির্মমভাবে আমাদের সন্তানদের বুকে গুলি করে করে মেরেছে। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে, এ জন্য আমাদের যা করণীয় সচেষ্ট থাকবো। নপম ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার জামান বলেন, আমি কেবল শিক্ষক নই, লেখকও। লেখক হিসেবে আমি সত্য উচ্চারণ করি, মননের উৎকর্ষতার আলাপ, সমাজের ও রাজনীতির ক্ষত আমরা চিহ্নিত করতে চাই। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবশ্যই শুদ্ধভাবে এই আকাঙ্খা পূরণে তৎপর হতে হবে।

সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শুধু দেশে নয়, পুরো পৃথিবী জুড়ে দখলবাজদের আধিপত্য বিস্তার চলছে। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীতার যথাযথ ভূমিকা না থাকায়, এখানে ইতিহাস চর্চা নিরপেক্ষ হতে পারি। আমরা যেন সেই সঠিক দিশা খুঁজে পেতে পারি। জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পাবনার আহ্বায়ক বরকতুল্লাহ ফাহাদ। তিনি বলেন, আমরা জানতাম আওয়ামীলীগের লোকজন, পুলিশ গুলি করবে। তবুও কেউ পথে নামা বন্ধ করিনি। আড্ডার মাধ্যমে সংযোগ সৃষ্টি এবং জ্ঞান বিকাশে তৎপরতা দেখানোর বিষয়ে আলাপ করেন নপম ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রেজাউল করিম শেখ। তিনি জুলাইয়ের স্মৃতি স্মরণ করে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সম্পৃক্ততার ঘটনা তুলে ধরেন।
আড্ডা শেষে শুভেচ্ছা উপহার স্বরূপ ব্যারিস্টার মোহাম্মাদ ইকবাল হোসেন, ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা এবং বরকতুল্লাহ ফাহাদ কে নপম এর প্রয়াত উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোহাম্মাদ আব্দুল করিম এর আত্মজীবনীগ্রন্থ প্রদান করা হয়।
আড্ডায় আরো উপস্থিত ছিলেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন, সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. শফিকুল ইসলাম, লিটন আহমেদ, হেলাল উদ্দিন, রাকিব হাসান, শরিফা সুলতানা, শহিদ বুলবুল সরকারি কলেজের খন্ডকালীন প্রভাষক কাওছার হোসেন, ভুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আতিক হাসান, নপম শুভার্থী নাট্যকর্মী সিয়াম মাহমুদ, স্বেচ্ছাসেবক শাওন বসাক, রাজু হাসান, হাফিজুল ইসলাম, মিনার, রহমতুল্লাহ হক অন্তর, রাকিব হাসান প্রমুখ।
